Tuesday, December 19, 2017

ভিআইপি বনাম অলৌকিকতা | পর্ব-১ | একটি ভ্রমন অভিজ্ঞতা |

ড. নূরুল করিম
 বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য
শুরু করতে চাই আমার মায়ের বলা একটি উক্তি দিয়ে । মা বলতেন, ‘‘বাবা উচু অবস্থানের অধিকারী হওয়া মহত্ব নয়, বরং অবস্থান থেকে ভাল কিছু করাই হলো মহত্ব ।’’ তাই আমি সবসময় মায়ের দেয়া এ শিক্ষাটি অনুসরন করার চেষ্টা করি ।
সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী আমার চলমান কর্মসূচীগুলির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিত আমি বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বাউফল প্রেস ক্লাবের কম্পিউটার হস্তান্তর এবং বাউফল উপজেলায় একটি একাডেমী উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম, একাডেমীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলাম করিম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে।
কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক, তিন জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পটুয়াখালীর একজন গাইডসহ ভোর ৫ টায় আমরা গুলশান থেকে বাউফলের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম ।রাস্তায় খুব স্বল্পসংখ্যক গাড়ি ছিল। আমরা যখন হাতিরঝিল অতিক্রম করছিলাম তখন ঢাকা মাত্র গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠছিল ।ঢাকা শহরের ভূসৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হাতিরঝিল এক চমৎকার সংস্করন ।ব্রীজে আলো আঁধারির এক ধুসর ছায়ায় আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমি বাংলাদেশের ঢাকা শহরে আছি । এ অদ্ভুত সৌন্দর্য আমার স্মৃতি পটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, এবং জাপানের কিছু স্থানের কথা মনে করিয়ে দিল।রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। আমি ভাবছিলাম কি সুন্দর আমাদের এ দেশ ।আমারা যদি সুন্দর স্বপ্ন দিয়ে সুসংগঠিতভাবে সব কিছু করতে পারতাম তাহলে আমাদের এ দেশ অনেক সুন্দর ও আনন্দদায়ক হতো।
এরই মধ্যে আমরা মাওয়া ফেরী ঘাটের কাছে পৌঁছে গেলাম ।পদ্মা নদী অতিক্রম করার জন্য আমরা প্রথম ফেরিটি ধরতে পারব কি না তা নিয়ে আমাদের ড্রাইভার চিন্তিত ছিলেন । আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে ফেরিটি একজন ভিআইপি আসার জন্য অপেক্ষা করছিল কারণ তাদের আগেই জানানো হয়েছিল ।ফেরীটি ছিল প্রায় গাড়িপূর্ন।শুধু একটু জায়গা খালি ছিল যদি ভিআইপি’র সঙ্গে একাধিক গাড়ি আসে তার জন্য ।অবশেষে ভিআইপি আসলেন । আমি আমাদের ড্রাইভারকে বললাম ভিআইপিকে অনুসরন করতে ।কিন্ত আমাদের ড্রাইভার দ্বিধান্বিত হলেন এবং একটু ভয়ও পাচ্ছিলেন ।পরে আমি জোর দিয়ে বলায় তিনি ভিআইপিকে অনুসরন করলেন ।নিরাপত্তা কর্মী আমাদেরকে ফেরীতে উঠতে দিলেন । সম্ভবত তিনি বুঝতে পারেননি যে আমরা ভিআইপ’র সাথের নয় । আমি আমার গাড়িতে বসে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম, আমি ভাবছিলাম, বাংলাদেশে যদি আপনি ভিআইপি হন তবে আপনি কত ভাগ্যবান ।
আমি নদীর তীরে লোকদের দেখেছিলাম, কঠোর পরিশ্রম করছে, তাদের মনে কোন ভয় নেই, খুব প্রাণবন্ত মেজাজে এবং আনন্দে গান গাইছে, তারা নদীর তীরেই তাদের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করেছে, নদীর সাথে রয়েছে তাদের ভাল সম্পর্ক, তারা নদীর পানি পান করে, নদীতে গোসল করে ।তাদেরকে বিল পরিশোধ করার বিষয়ে চিন্তা করতে হয়না । কারন তাদের কোন বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, নেই উপভোগের কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি । এসবের পরিবর্তে তারা প্রকৃতি থেকেই সবকিছু ভোগ ও উপভোগ করছে ।কখনও কখনও প্রমত্তা পদ্মা তাদের উপর বিরক্ত হয় এবং তাদের তৈরি সবকিছু ধ্বংস করে দেয়, তারা বেঁচে থাকার জন্য আবার যুদ্ধ করে। আমি এই মানুষদের জীবনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের জীবন তুলনা করছিলাম । উন্নত দেশ বলি আর দরিদ্র দেশ বলি বেঁচে থাকার জন্য এ দু’য়ের মধ্যে  আমি গুরুত্বপূর্ন সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছিলাম ।কিন্ত কোন জীবনটি সত্যিই উৎকৃষ্ট এমন একটি উপসংহারে আসতে পারিনি।
কিছুক্ষন পর আমরা পদ্মা নদীর অন্য পাশে পৌঁছলাম এবং আমাদের ড্রাইভার বিচক্ষনতার সঙ্গে ভিআইপির আগে আমাদের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেল আমাদের গন্তব্য বাউফল, পটুয়াখালী, বরিশালের দিকে । পথ বরাবর বয়ে যাওয়া নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে বরিশাল শহর অতিক্রম করছিলাম। দু’টি নাম মনে পড়ে গেল একজন এ কে ফজলুল হক এবং অন্যজন জীবনানন্দ দাশ । উভয়ই বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। বরিশালের পূর্ব নাম চন্দ্রদীপ। এ কে ফজলুল হককে বলা হয় বাংলার বাঘ এবং আমাদের বাংলাদেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তিঁনি আমাদের ইতিহাসে এবং আমাদের বাংলা ও মুসলিম সংস্কৃতিতে একটি বিশাল অবদান রেখে যান । রবীন্দ্রনাথের পরে জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কবিতায় নতুন ধারার আধুনিকতার সৃষ্টিকর্তা । তিনি একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ভাষার জন্ম দিয়েছিলেন এবং আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রেখে গেছেন।
অবশেষে আমরা বাউফল উপজেলায় পৌঁছলাম যেখানে অনেক মানুষ আমাদের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং আমাদের সহযোগী হয়ে যেখানে মসজিদ ও স্কুল উদ্বোধন করার কথা সেখানে আমাদেরকে নিয়ে গেলেন ।মানুষগুলো ছিল অত্যন্ত আন্তরিক । উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর আমরা শিকদার বাড়ির ডালিমদের ঘরে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম । সুস্বাদু খাবারগুলোর প্রতিটি আইটেম প্রাকৃতিক উপায়ে তাদের নিজস্ব চাষকরা উপাদান থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
আমাদের পরের অনুষ্ঠান ছিল বাউফল উপজেলা প্রেস ক্লাবকে একটি কম্পিউটার হস্তান্তর করা । অনেকগুলো মোটরবাইক আমাদের সহযোগী হয়ে আমাদেরকে প্রেসক্লাবে নিয়ে গিয়েছিল ।একটি সুসংগঠিত আয়োজন এবং কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দু’শ লোকের উপস্থিতিতে আমরা বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে কম্পিউটার হস্তান্তর করি । আমাদের পরবর্তী প্রোগ্রাম ছিল পটুয়াখালী প্রেস ক্লাব তাই আমরা বাউফল ছেড়ে চলে গেলাম । আমরা পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সচিবকে একটি খুব আনন্দময় প্রোগ্রামে কম্পিউটার হস্তান্তর করেছিলাম যেখানে পটুয়াখালীর অনেক বুদ্ধিজীবী ও অভিজাত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন ।পরে  সেখানকার জেলা প্রশাসক জনাব আমিতাব সরকার এবং পুলিশ সুপার জনাব সায়েদ মুশফিকুর রহমানের আমন্ত্রন পেয়ে তাঁদের বাসভবনে গিয়েছিলাম, উভয়ই সত্যিকারের ভদ্রলোক । আমরা প্রথমে জেলা প্রশাসক এর বাসভবন গিয়েছিলাম এবং তারপর গিয়েছিলাম পুলিশ সুপার এর বাসভবনে, উভয় স্থানে আমাদেরকে পৃথকভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়।
পটুয়াখালী’র জেলা প্রশাসক অমিতাব সরকার ও 
পটুয়াখালী প্রেসক্লাব’র সভাপতি স্বপন কুমার সহ।
সুস্বাদু খাবারের সাথে তাদের অভ্যর্থনা, বিনয় এবং আতিথেয়তা ছিল অসাধারন । জেলা প্রশাসক আমিতাব সরকার বাইরে এসে পটুয়াখালী জেলার উন্নয়নে তাঁর অবদানগুলো দেখিয়েছিলেন, তিঁনি একটি নতুন ফোয়ারাও নির্মাণ করেছিলেন যা পটুয়াখালী শহরের সৌন্দর্যকে আলোকিত করেছে । বাংলাদেশে ২৭ টি জেলায় আমার সাম্প্রতিক ভ্রমণের সময় দেখা তিঁনি ছিলেন সবচেয়ে অসামান্য জেলা প্রশাসক । তিনি শুধুমাত্র একজন ব্যতিক্রমী অফিসারই নন, তিনি একজন মহান মানুষও ।আমরা পটুয়াখালীতে রাত কাটিয়ে ভোর ৫ টায় কুয়াকাটা দেখতে গেলাম, এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত । বঙ্গোপসাগরের পানিতে একই সাদা বালুকাময় সৈকত থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যায় ।
আমরা সূর্যোদয় দেখেছি কিন্তু সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারিনি, কারণ আমাদের পরবর্তী কম্পিউটার হস্তান্তর প্রোগ্রামে যোগ দিতে বরিশাল প্রেস ক্লাব যেতে হয়েছিল । বরিশাল প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানটি অন্যরকম ছিল কারণ আমি বাংলাদেশে আসার আগে বিশিষ্ট সাংবাদিক জেড আই মামুন আমার সম্পর্কে এবং আমার প্রোগ্রাম সম্পর্কে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদককে জানিয়েছিলেন । বরিশাল তার জন্মস্থান এবং এই বিভাগে তিনি খুব জনপ্রিয় ।দর্শনীয় একটি প্রোগ্রাম শেষ করে আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করি ।  
দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নিবন্ধটি ড. নূরুল করিম, বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য এর  ইংরেজিতে লেখা নিবন্ধ থেকে অনুদিত 

Sunday, December 17, 2017

শিক্ষা হোক সেবা শিল্প | পণ্যের কারখানা নয় |

Product  Vs. Service-educationpointbd.blogspot.com
বিগত পর্বে–‘পদ্ধতিই যেখানে অসদুপায় অবলম্বনের অনুপ্রেরণা’ শিরোনামে নিবন্ধটিতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সর্বগ্রাসী নকল প্রবনতার বিষয়ে শিক্ষা পদ্ধতির কিছু ত্রুটি সম্পর্কে সাধারনভাবে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি ।
নকল প্রবনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতেও ছিল, এখনও আছে ।দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য হলো এখন নকলের চরিত্র নগ্নতায় পরিপূর্ন।

এখন নকলকারী শিক্ষার্থী নকলকে অধিকার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় । এখন নকলকারী শিক্ষার্থী নকলের জন্য শিক্ষকের শাসন বারন মানতে রাজি নয় ।আগে লুকিয়ে করত এখন প্রকাশ্যে করতে চায় ।আগে নকলে ধরা পড়লে অনুতপ্ত হতো, শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতো, আর করবেনা বলে প্রতিশ্রুতি দিত, এখন ধরা পড়লে হাসি তামাশায় সেটাকে উপভোগ করতে চায় ।

একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষনীয় যে, নকল প্রবনতা শহরের শিক্ষার্থীদের চাইতে গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বেশি। আবার গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নকল প্রবনতা অনেকটা কম ।শহরের এবং গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নকল প্রবনতা কম থাকার প্রধানতম কারন পিতা মাতার সচেতনতা এবং যথাযথ কাউন্সেলিং । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নকলের প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ অসেচেতন । তাঁরা সন্তানের শিক্ষার পিছনে নিজে কোন সময় ব্যয় করেননা ।এদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অভিভাবক শ্রেণি আছেন যাঁরা সন্তানের শিক্ষার পিছনে প্রয়োজনীয় ব্যয় প্রদানে মোটেই কার্পন্য করেননা কিন্ত, সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও প্রাইভেট টিউটরের উপর ।শহরের শিক্ষার্থীরা পিতা মাতা বা অভিভাবকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তত্বাবধানে যতটা সময় পড়ালেখার পিছনে ব্যয় করে, গ্রামের শিক্ষার্থীরা ততটা বা তার চেয়েও বেশি সময় পিতা মাতা বা অভিভাবকের তত্বাধানের বাইরে পড়ালেখা ছাড়া অন্য কাজে বেশি ব্যয় করে ।
    
বর্তমানে আমাদের শিক্ষা কারিকুলামে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য প্রণীত সিলেবাসের বহর অনেক বড় ।শুধু সিলেবাস কেন শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী সাবজেক্টের সংখ্যাও অনেক বেশি ।অনুমোদিত টেক্সট বইয়ের ভাষার কাঠিন্য বেশি হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষেই নিজে থেকে সমস্যা সমাধান সম্ভবপর হয়ে উঠছেনা ।সিলেবাসের ব্যাপকতা, টেক্সট বইয়ের ভাষার কাঠিন্য ইত্যাদি কারনে একজন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট শিক্ষা বর্ষের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুধু লেখাপড়া করা ছাড়া প্রয়োজনীয় খেলাধুলা বা আর কিছুই করার সময় থাকেনা । শহরের পরিবেশে প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসের সময় ছাড়া শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকার সুযোগ কম থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই পড়ালেখায় সময় ব্যয় করতে পারে ।অন্যদিকে গ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকটাই বিপরীত অবস্থা ।

শিক্ষার্থীর বয়স ও মেধার সাথে সমন্বয়হীন শিক্ষা কারিকুলাম, সাবজেক্টের আধিক্য, সিলেবাসের ব্যাপকতা, শিক্ষাবর্ষের জন্য বরাদ্দকৃত সময়, পরিবেশ ইত্যাদি নানা কারনে শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবকগণও বর্তমান শিক্ষা নিয়ে ত্যাক্ত বিরক্ত ।শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে শিক্ষার সঙ্গে থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিরানন্দ ও বোঝা সম এ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিহে ফেলছে ।ক্ষেত্র বিশেষে পরিবারের একজনের শিক্ষার পিছনে পরিবারের সবাইকে শ্রম দিতে হচ্ছে, পেরেশানি ভোগ করতে হচ্ছে ।আর বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার এ বিশেষ দুর্বলতাগুলোর সুযোগ নিচ্ছে এক ধরনের শিক্ষা ব্যবসায়ীগণ ।শিক্ষকগণ নিচ্ছে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সুযোগ, প্রকাশকগণ নিচ্ছে নোট ও গাইড বই বাণিজ্যের সুযোগ । শিক্ষা এখন পুরোপুরি একটা পণ্যের বৈশিষ্ট্য ধারন করে ফেলেছে ।

শিক্ষা ব্যবসায়িক পণ্য হতে পারে না । কারন একটি পণ্যের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকার দরকার শিক্ষার তা নেই । তাই কোন গবেষনাই শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে গণ্য করতে পারেনি । শিক্ষার উপকরন সমূহ পণ্য, এ যুক্তিতে কেউ কেউ শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ভবাতে চান যা একটি ভুল ভাবনা ।বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী শিক্ষা একটি সেবা । পণ্য ও সেবার উপযোগিতা এক নয় । খুব সহজ একটি উদাহরনের সাহায্যে বিষয়টি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারনা লাভ করা যেতে পারে । ধরুন একজন বিশ লাখ টাকায় একটা গাড়ি কিনলেন । এখনে গাড়িটি পণ্য, ক্রেতা বিশ লাখ টাকা দিলেন গাড়িটি পেলেন । ক্রেতা গাড়িটির অস্তিত্ব, গাড়ীর কালার, গাড়ির ডিজাইন ইত্যাদি দেখতে পারেন । গাড়িটি ধরতে পারেন, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পারেন, গাড়িটি রাস্তায় কেউ ভাংতেও পারেন । তাই গাড়ীর এসব বৈশিষ্ট্যের কারনে গাড়ি পণ্য হিসেবে স্বীকৃত।

এবার ধরুন গাড়িটির একটা চাকার হাওয়া কমে গেল, গাড়ির মালিক হাওয়ার দোকানে নিয়ে চাকায় হাওয়া দিয়ে দোকানীকে বিশ টাকা দিলেন ।এখানে গাড়ির মালিক বিশ টাকা দিয়ে যা পেলেন তার কোন অস্তিত্ব, কালার, ডিজাইন ইত্যাদি দেখলেননা । ধরতে পারলেননা, ভাংতেও পারলেননা । তাই এসব বৈশিষ্ট্যের কারনে বিশ টাকা দিয়ে গাড়ির মালিক যা পেলেন তা সেবা হিসেবে স্বীকৃত । অর্থাৎ উপযোগিতা প্রাপ্তির দিক থেকে একটি পণ্য, অপরটি সেবা ।আমরা যখন পণ্য ক্রয় করি তখন পণ্যের মূল্য অনুযায়ী পণ্যটির সবকিছু কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্ত সার্ভিসের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয় ।একজন সার্ভিস গ্রহীতার সার্ভিস পুরোপুরি পাওয়াটা নির্ভর করে সার্ভিস দাতার ইচ্ছার উপর ।

শিক্ষা হলো যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে তীরস্কারের মাধ্যমে আবিস্কার করে, নিজের অজ্ঞতাকে বিজ্ঞতায় পরিনত করে, নিজের পাশবিক প্রবৃত্তিকে মানবিক প্রবৃত্তিতে রুপান্তর করে, নিজের অন্তর্নিহিত পশুত্বকে মনুষ্যত্বে রুপদান করে, নিজের লোভকে সংবরন করার ক্ষমতা অর্জন করে, নিজের দৃষ্টিভঙ্গীকে শাসন করার দক্ষতা অর্জন করে, নিজের চরিত্রের কালো দাগগুলি আলো দ্বারা ধৌত করে, নিজের সার্বিক আচরনের ইতিবাচক স্থায়ী উন্নয়ন-বিকাশ ও পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয় ।

শিক্ষাদান হলো একটি সেবা । এটি একটি শিল্পও বটে । একজন সত্যিকারের শিক্ষক তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতিকে শিল্পীর মত প্রতিনিয়ত শিল্পত্ব দান করেন । একজন সুশিক্ষক কখনও শিক্ষাদানের মত সেবাকে মুদি পণ্যের ওজনের মত কতটুকু দেবেন এটা নির্ধারন করেননা । একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক কখনও শিক্ষাদানের মত সেবাকে জমির আয়তনের মত কি পরিমান দিবেন সেটাকে সময়ের ফ্রেমে পরিমাপ করেননা । একজন আদর্শ শিক্ষক কখনও শিক্ষাদানের মত সেবাকে ডিমের সংখ্যার মত কয়টি দিবেন সেটা সংখ্যায় বিচার করেননা ।

শিক্ষাকে বানাতে হবে শিল্প যেখানে উৎপাদন ও বিতরন হবে সেবা ।শিক্ষাকে পণ্যের কারখানা বানানোর অসাধু চিন্তা বন্ধ না করলে, মুখে যে গুণগত শিক্ষার কথা বলছি তা এখানে নয় খুজতে হবে অন্য কোন দেশে বা ভিন্ন কোন গ্রহে ।তাই শিক্ষা হোক সেবা শিল্প, পণ্যের কারখানা নয় ।
== লেখকঃ এ এস এম কামাল উদ্দিন (সহকারী অধ্যাপক)


Wednesday, December 13, 2017

অকর্ম’র সকর্ম ভাবনা (পর্ব -২) -পদ্ধতিই যেখানে অসদুপায় অবলম্বনের অনুপ্রেরণা ।

 অকর্ম’র সকর্ম ভাবনা (পর্ব -২)
বিগত পর্বে ‘পরীক্ষার্থীর যোগ্যতার মূল্যায়ন বনাম সহানুভূতির পুরস্কার’ শিরোনামে লেখাটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল- কম বেশি নব্বই ভাগ পরীক্ষার্থীই এখন পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার যোগ্যতার জন্য নম্বর পায়না, কষ্ট করে পৃষ্ঠা ভরে কিছু একটা লেখার জন্য পরীক্ষকের সহানুভূতির পুরস্কার পায় ।

এ পর্বেও বাংলায় সে প্রবাদটি দিয়ে শুরু করছি, ‘কইলে মা মারন খায়, না কইলে বাপ হারাম খায়’ ।অর্থাৎ এক ধরনের উভয় সংকট পরিস্থিতি । আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও অনেক সত্য কথা কইতে পারা এবং সইতে পারা উভয়ই কঠিন । বাস্তব চিত্র তুলে ধরলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ কম বেশি সকলেরই গায়ে লাগার কথা ।তবুও কাউকে না কাউকে বলতে হবে, সচেতন মানুষদের এ নিয়ে ভাবতে হবে । নাহলে আমরা মুখে যে গুণগত শিক্ষার কথা বলছি তা অর্জন হবে সুদূর পরাহত ।

আমরা ক্লাসগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখি কয়েক ধরনের মেধার শিক্ষার্থী রয়েছে । খুব নগন্য সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা মেধাবী স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য ।স্বল্প সংখ্যক রয়েছে যারা মধ্যম মেধার এবং বড় একটি অংশ রয়েছে সাধারন মেধার । কিন্ত একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় সমবয়সী এসব শিক্ষার্থীর অনেকগুলো কমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দেখলে এদের মধ্যে মেধার এতটা তারতম্য রয়েছে তা মনে হয়না । আমার ব্যক্তিগত ধারনা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মেধাবী । কিন্ত পরিবেশের নানা প্রভাবে এদের মেধার তারতম্য ঘটে থাকে । বিশেষ করে পরিবার, সামাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষা ব্যবস্থা, যথাযথ কাউন্সেলিং ইত্যাদির ভুমিকাই প্রধানতঃ এর জন্য দায়ী ।আবার কিছু আছে প্রাকৃতিকভাবেই কম মেধা সম্পন্ন । তবে কারন যাই হোকনা কেন এগুলি নিরসন করা কোন পক্ষের পক্ষেই অতটা সহজ কাজ নয় ।কিন্ত তাই বলে প্রচেষ্টাতো থেমে থাকতে পারেনা ।

আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পদ্ধতি চালু আছে তা সকলের জন্য একই রকম । বিষয়টি আর একটু ব্যাখ্যা করে বলা প্রয়োজন । আমাদের দেশে তিন পদ্ধতির শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে যেমন – সাধারন শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা । সাধারন শিক্ষায় যে সিলেবাস রয়েছে তা সাধারন শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত সকল স্তরের মেধার শিক্ষার্থীর জন্যই প্রযোজ্য । তেমনি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য ।আমরা লক্ষ্য করলে দেখব যে, সকল শিক্ষার্থীর এমন কি সকল অভিভাবকেরও শিক্ষার লক্ষ্য বা চাহিদা এক রকম নয় ।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে একদল আছে খুবই আত্নবিশ্বাসী এবং উচ্চাকাংখী, যেখানে শিক্ষার্থী বড় মাপের কিছু একটা হতে চায় বা অভিভাবক সন্তানকে বড় মাপের কিছু একটা বানাতে চায় । 

আরেক দল আছে তাদের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই, নেই সেরকম আত্নবিশ্বাস । এরা সাধারন প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে সাধারন কিছু হতে পারলেও তারা সন্তুষ্ট হয় ।একদল অন্য কোন কাজ নেই তাই পড়তে হবে বলে পড়ে । এরা একেবারেই লক্ষ্যহীনভাবে স্টুডেন্ট লাইফের সঙ্গে থাকে ।এদের সাধারন উদ্দেশ্য থাকে পাশ করে একটা সনদ অর্জন করা । অন্য একদল আছে যাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার সঙ্গে লেগে থাকা । পথিমধ্যে বিয়ে বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে স্টুডেন্ট লাইফকে গুডবাই জানিয়ে সংসার বা কর্ম জীবনে চলে যাওয়া ।

শিক্ষার্থীর চাহিদার তারতম্যের কারনে শিক্ষার্থীর পড়া-লেখার পদ্ধতিতেও তারতম্য ঘটে থাকে ।যে যা ফল প্রত্যাশা করে সে অনুযায়ীই পরিশ্রম করে । প্রথম লাইনের স্টুডেন্টরা শ্রম দিয়ে পড়তে চায়, ক্লাস করে শিখতে চায়, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে চায়, শ্রম অনুযায়ী সেরা ফল অর্জন করতে চায় ।কিন্ত পরবর্তী লাইনের স্টুডেন্টদের মধ্যে এসব গুণ খুব কমই পরিলক্ষিত হয় ।আগেই বলেছি একই ধারার জন্য প্রণীত সিলেবাস ঐ ধারার সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য । মেধার স্তরগত পার্থক্যের কারনে সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে এ সিলেবাসের ভার বইতে পারা সম্ভব হয়ে ওঠেনা ।মেধাবী, মধ্যম মেধাবী ও কম মেধাবী সকল শিক্ষার্থীকে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয় কিন্ত পরীক্ষার জন্য এদের প্রস্ততিতে থাকে বিরাট ব্যবধান ।একই হলে মেধার দিক থেকে সকল স্তরের পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় বলে সাধারন প্রস্তুতি গ্রহনকারী পরীক্ষার্থীরা নকল করে লেখা বা অন্যের দেখে দেখে লেখার প্রতি বেশি আগ্রহী হয় ।এক পর্যায়ে পরিবেশের প্রভাবে ভাল মন্দ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় ।

ইদানিং আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে নকল পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছে ।নকল যেন পরীক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিনত হয়ে যাচ্ছে ।যত চেষ্টাই করছি নকলকে কোনভাবেই যেন আমরা রুখতে পারছিনা । আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গেই যেন নকল জড়িয়ে আছে আঠার মত ।চার জনকে আলাদা অবজেক্টিভ প্রশ্নের সেট বিলি করলেও কয়েক সেকেন্ডর মধ্যে চার জনের একই সেট হয়ে যাচ্ছে যেন জাদুর মত ।এভাবে নকলের সূত্রপাত হচ্ছে পরীক্ষা শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই যা বিভিন্ন কৌশলে অব্যাহত থাকে পরীক্ষার শেষ মিনিট পর্যন্ত ।

পরীক্ষার্থীর তুলনায় হলে কর্তব্যরত পর্যবেক্ষকের সংখ্যার অপ্রতুলতা এবং পারিপার্শ্বিক নানা কারনে হল পর্যবেক্ষকের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া রিতীমত এক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে ।ফলে দিন দিন পরীক্ষার্থীর নকল প্রবনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকের নিয়ন্ত্রন বিমুখতার কারনে কিছু অসচেতন ও অসাধু অভিভাবকও এ নকলের মহোৎসবে শরীক হয়ে যাচ্ছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বুঝে অথবা না বুঝেই ।এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় খুজতে হবে সকল সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিককে ।নইলে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম নিমজ্জিত হবে এক নকলের মহা সমূদ্রে । এখনই প্রতিকার করতে না পারলে পরে অরাজকতার মহাসাগর থেকে প্রজন্মকে উদ্ধারের চেষ্টা হবে কলা গাছের ভেলায় চড়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার মত বৃথা চেষ্টার শামিল । 

== লেখকঃ এ এস এম কামাল উদ্দিন (সহকারী অধ্যাপক)

রিলেটেড পোস্টসমূহ-  

Monday, December 11, 2017

অকর্ম’র সকর্ম ভাবনা (পর্ব -১) -পরীক্ষার্থীর যোগ্যতার মূল্যায়ন বনাম সহানুভূতির পুরস্কার ।

কম-বেশি নব্বই ভাগ পরীক্ষার্থীই এখন পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার যোগ্যতার জন্য নম্বর পায়না, কষ্ট করে পৃষ্ঠা ভরে কিছু একটা লেখার জন্য পরীক্ষকের সহানুভূতির পুরস্কার পায় । এমতাবস্থায় আমাদের শিক্ষার ফলাফলকে গণনা করা গেলেও ওজন করা যাচ্ছেনা ।তুলার বস্তা দেখতে অনেক বড় কিন্ত ওজনে অনেক হালকা ।আমাদের পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখতে অনেক মোটা কিন্ত গুনগত মান বলতে যা বুঝায় তা নেই প্রায় ৯০ ভাগ উত্তরপত্রেই । তাহলে কী লিখছে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ?

অনেক কিছুইতো লিখছে । পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখছে । মূল উত্তরপত্র শেষ করে ৪-৫টা করে অতিরিক্ত উত্তরপত্র লিখছে ।দু’আড়াই ঘন্টায় কেউ কেউ ৩০-৪০ পৃষ্ঠা লিখছে, কেউবা তারও বেশি লিখছে । যা মনে আসছে তা লিখছে । যা খুশি তা লিখছে । যা ইচ্ছা তা লিখছে ।এখান থেকে কিছু আর ওখান থেকে কিছু নিয়ে লিখছে । ডান থেকে কিছু আর বাঁ থেকে কিছু নিয়ে লিখছে । সামনে থেকে কিছু আর পেছন থেকে কিছু নিয়ে লিখছে । একবার উদ্দীপক’র শেষ থেকে কিছু অংশ নিয়ে উদ্দীপক’র প্রথম অংশ জোড়া দিয়ে লিখছে । আবার উদ্দীপক’র মাঝখান থেকে কিছু অংশ নিয়ে উদ্দীপক’র প্রথম অংশ জোড়া দিয়ে লিখছে । একবার এ উদ্দীপক থেকে কিছু আবার ঐ উদ্দীপক থেকে কিছু নিয়ে লিখছে । ইংলিশ অক্ষরে বাংলা উচ্চারন লিখছে, আর বাংলা অক্ষরে ইংলিশ উচ্চারন লিখছে ।বড় বড় সাইজে দু’তিন বাক্যে ১৫-২০ শব্দ ফাঁক ফাঁক করে লিখে এক একটা পৃষ্ঠা ভরছে আর পৃষ্ঠার সংখ্যা বাড়াচ্ছে ।  
সত্যি বলতে গেলে আমাদের বর্তমান শিক্ষার্থীদের ধৈর্য্য অনেক কম । পরিবেশের নানা প্রভাবে আমাদের বর্তমান জেনারেশনের অধিকাংশের কর্মক্ষমতাও অনেক কম ।বিশেষ করে যাদের বয়স এখন কৈশোর অতিক্রম করতে যাচ্ছে এদের ক্ষেত্রেই কথাটি বেশি প্রযোজ্য । এ জেনারেশনটি ভেজাল খাদ্য ও শিক্ষা বাণিজ্যের কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।বয়স অনুযায়ী শিক্ষায় অতিরিক্ত বিষয়, বিশালকায় সিলেবাস, অপ্রয়োজনীয় বই ব্যাগে ভরে কাঁধে করে বয়ে বেড়ানো ইত্যাদি অপ্রত্যাশিত পরিশ্রম তাদেরকে একদিকে করছে খর্বকায় অন্য দিকে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শিক্ষা ভীতি ও অনীহা । শিক্ষার চাপ একদিকে শিক্ষার্থীর আনন্দের জগতকে করে দিচ্ছে সংকুচিত, অন্যদিকে বাধ্য হয়ে বইয়ের পোকা হতে গিয়ে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা হচ্ছে বাধাগ্রস্ত ।তাছাড়া রয়েছে একই বয়সের শিক্ষার্থীদের একের সাথে অন্যের মেধার তারতম্য ।নগন্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এটাকে কষ্ট করে হজম করতে পারলেও অধিকাংশেরই বদহজম হয়ে যাচ্ছে । এ বয়সে একজন ছেলে বা মেয়ের কর্ম জীবনে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে বাধ্য হয়ে শিক্ষা জীবনেই থাকতে হচ্ছে ।অন্যেরা পড়ছে তাই তাকেও সাধ্যমত কিছু না কিছু পড়তে হচ্ছে । অন্যেরা পরীক্ষা দিচ্ছে তাই তাকেও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে । অন্যেরা লিখছে তাই তাকেও কিছু না কিছু লিখতে হচ্ছে । অন্য দিকে সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে অপ্রিশিক্ষিত শিক্ষকের ভুল ব্যাখ্যা বা শেখানোর ভুল পদ্ধতি শিক্ষার্থীকে যাচ্ছেতাই শিখতে বা আবোল তাবোল লিখতেও অনুপ্রাণিত করছে ।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘কইলে মা মারন খায়, না কইলে বাপ হারাম খায়’ । এক ধরনের উভয় সংকট পরিস্থিতি । আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও অনেক সত্য কথা কইতে পারা এবং সইতে পারা উভয়ই কঠিন । বাস্তব চিত্র তুলে ধরলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ কম বেশি সকলেরই গায়ে লাগার কথা । তবুও বলতে হবে, সচেতন মানুষদের এ নিয়ে ভাবতে হবে। নাহলে আমরা মুখে যে গুণগত শিক্ষার কথা বলছি তা অর্জন হবে সুদূর পরাহত ।

বর্তমান সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রাকটিক্যাল যুক্ত বিষয় ব্যতীত অন্য সব বিষয়ে ৭টি উদ্দীপকের বিপরীতে ২৮ টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয় । একজন শিক্ষার্থী সারা বছর কিছু না পড়েই ২৮টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারে ।কী পদ্ধতিতে পারে তা এ নিবন্ধের দ্বিতীয় প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে ।কোন উত্তরই সঠিক হয়নি অথচ ২৮ টি প্রশ্নের উত্তরই লিখেছে, কেউ কেউ ২৫-৩০ পৃষ্ঠা লিখেছে, কেউবা কৌশল অবলম্বন করে ৩০-৪০পৃষ্ঠাও লিখে পৃষ্ঠার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, সেক্ষেত্রে প্রতিটি উত্তরের জন্য একটি করে জিরো দিয়ে ২৮ টি জিরো দেয়া একজন পরীক্ষকের জন্য একটি বিরাট কঠিন বিষয় ।তাছাড়া নানা ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার বিড়ম্বনা এড়াতেও পরীক্ষক এমন ঝুঁকি নিতে চাননা । যে কারনে কম-বেশি নব্বই ভাগ পরীক্ষার্থীই এখন পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার যোগ্যতার জন্য নম্বর পায়না, কষ্ট করে পৃষ্ঠা ভরে কিছু একটা লেখার জন্য পরীক্ষকের সহানুভূতির পুরস্কার পায় । এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় বের করতে না পারলে তথাকথিত শিক্ষিত তৈরি হয়ে দেশ ভরে যাবে, কিন্ত না আসবে দেশের কাজে-না আসবে দশের কাজে ।


=== লেখকঃ এ এস এম কামাল উদ্দিন, (সহকারী অধ্যাপক)




Sunday, December 3, 2017

প্রশ্নপত্র ফাঁস : পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়া যেন অধিকারে পরিণত না হয়।

ভাল হোক আর মন্দ হোক, কোন সিস্টেম যদি দীর্ঘ সময় ধারাবহিকভাবে চলতে থাকে সেটা এক সময় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় । যেমন বিভিন্ন বিষয়ে জনমত তৈরি করতে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে বিষয়ে জনমত গঠিত হয় এবং এক ধরনের প্রতিষ্ঠিত নিয়মেও পরিণত হয় ।

বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে ।প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষায় অনুষ্ঠিত এমন কোন পাবলিক পরীক্ষা নেই যার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে ফাঁস হয়না । শুধু পাবলিক পরীক্ষা নয় বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল সহ যেসকল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সেগুলির প্রায় সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়ে যায় পরীক্ষার পূর্বেই । বিসিএস সহ কোন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক চাকুরির পরীক্ষা বাদ নেই যেটার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার পূর্বে ফাঁস হচ্ছেনা । এগুলির পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়াটা এখন মামুলি ব্যাপারে পরিনত হয়েছে ।

ভেবেছিলাম এ বছর হয়তো প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে ফাঁস হবেনা । কিন্ত না এবারও প্রশ্নপত্রকে রেহাই দেয়া হয়নি । তবে পরীক্ষার পুর্বেই প্রশ্নপত্র ফাঁস সংস্কৃতি শুরু হওয়ার প্রথম দিকের চরিত্রের সঙ্গে এখনকার চরিত্রের কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে ।প্রথম অবস্থায় মানুষের মধ্যে এ বিষয়টিকে নিয়ে যতটা সমালোচনা পরিলক্ষিত হয়েছিল বা বিষয়টাকে যতটা ঘৃনা করেছিল এখন আর ততটা সমালোচনা বা ঘৃনা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা ।ধীরে ধীরে মানুষ যেন এটাকে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার বলে ইচ্ছা না থাকলেও মেনে নিচ্ছে । যে প্রযুক্তির বদৌলতে এসব খবর জেনে যেসব মানুষ ঘৃনাভরে সমালোচনা করেছিলেন, সে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অনেকেই এখন নিজ সন্তানের জন্য পরীক্ষা পূর্ব প্রশ্নপত্র খুঁজছেন । সত্যি বললে বলতে হয়- প্রযুক্তি আমাদের কাজ কর্মকে যতটা গতিশীল করেছে, নৈতিকতাকে তার চেয়েও বেশি বিপন্ন করেছে । তবে এটা প্রযুক্তির দোষ নয়, দোষ হলো মানুষের কুপ্রবৃত্তির ।

মানুষকে বলা হয় পরিবেশের দাস । যেকোন পরিবেশ মানুষকে সেরকম করে ফেলে । বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বচনটি একেবারেই প্রমাণিত । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরাও নকল করার প্র্যাকটিস করছে, পরীক্ষা পূর্ব প্রশ্নপত্র পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে । মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের কিশোরদের মাঝে এ প্রবণতা আরও প্রকট । উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটা যে ভয়াবহতা লাভ করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যদের উদাহরন দিয়ে নিজেদের নকল করা বা পরীক্ষা পূর্ব প্রশ্ন পাওয়াকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে । অনেক শিক্ষককেও এখন পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব কাজে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে । আগে যাদেরকে চরম সমালোচনা করতে দেখা যেত এখন তারা এ্যাঁ ওঁ বা মিন মিন করে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন । অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এক হয়ে পরীক্ষার পূর্বে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পিছনে দৌড়ছেন ।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এ অনৈতিক কাজের জন্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেনা । কেউ শাস্তি পাচ্ছেনা । ফাঁস হওয়াকে অনেক ক্ষেত্রে ফাঁসও বলা যাচ্ছেনা । বিষয়টি যেভাবে স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি লাভ করছে তাতে ভয় হচ্ছে যে, এটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় কিনা । এরশাদ সাহেবের আমলে ভোটের অবস্থা কেমন ছিল তাতো সবার জানাই আছে । তৎকালে ছাত্ররা নকলের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোথাও কোথাও এমন স্লোগান দিতেও শোনা যেত-‘ ভোট হয়েছে যেভাবে, পরীক্ষাও হবে সেভাবে’। 

এখন আমাদের যেভাবে পরীক্ষার পূর্বেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, সেটা যদি ধারাবাহিকভাবে আরও চলতে থাকে তাহলে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে অধিকারেও রুপ নিতে পারে । শিক্ষা ব্যবস্থাই যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে আর থাকলো কী ? ধ্বংসই যদি উদ্দেশ্য না হয় তবে বলব প্লিজ আর না, যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে, এবার বন্ধ করুন । তা নাহলে ভবিষ্যতে জাতিকে এমন স্লোগানও শুনতে হতে পারে- ‘পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে ।’

==== এ এস এম কামাল উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক ====

Thursday, November 30, 2017

ক্যাডার নন-ক্যাডার পদমর্যাদার দ্বন্দ্ব : তিরস্কার নয়, আলোচনাই হোক সমাধান ।

ক্যাডার নন-ক্যাডার পদমর্যাদার দ্বন্দ্ব : তিরস্কার নয়, আলোচনাই হোক সমাধান ।

একটি প্রবাদ আছে, ‘মক্কায়ও চোর আছে, লঙ্কায়ও  ভিখারী আছে ।’ আসলে  ভাল   বা  মন্দ  সব জায়গায়ই  আছে,  পার্থক্য  শুধু সংখ্যায় কম আর বেশি । দু’এক জন  দূর্নীতিবাজ  রাজনৈতিক ব্যক্তির কারনে বলা যাবেনা সব রাজনৈতিক ব্যক্তিই দূর্নীতিবাজ । দু’এক জন অসৎ পুলিশের কারনে বলা যাবেনা সব পুলিশই অসৎ । দু’এক  জন  চরিত্রহীন শিক্ষকের কারনে  বলা  যাবেনা  সব সব শিক্ষকই  চরিত্রহীন । সার্টিফিকেট থাকলে  শিক্ষিত বলা  যায় কিন্ত সুশিক্ষিত হওয়া ভিন্ন জিনিষ ।

ইদানিং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্যাডার-নন ক্যাডার বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে । চলছে কর্ম বিরতি এমনকি সভা সমাবেশও । ক্যাডার মর্যাদা পাওয়া-দেওয়া নিয়ে যে যার মত করে যুক্তি দিচ্ছেন, তর্ক করছেন । যে কোন বিষয় নিয়ে যুক্তি তর্ক থাকবে এটা যেমন একটা স্বাভাবিক ব্যাপার । কিন্ত পেশা ভেদে এ যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের পদ্ধতির মধ্যেও পার্থক্য থাকবে এটাও তেমনি একটা স্বাভাবিক ব্যাপার । শ্রমজীবি মানুষের যুক্তি তর্ক আর বুদ্ধিজীবি মানুষের যুক্তি তর্ক একই রকম হলে মানুষ চিনবে কীভাবে কে শ্রমজীবি? আর কে বুদ্ধিজীবি? অবশ্যই উপস্থাপন, প্রকাশ ভঙ্গী, শব্দ চয়ন, বডি লেংগুয়েজ, সহনশীলতা ইত্যাদির মাধ্যমে । ইদানিং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্যাডার-নন ক্যাডার বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক চলছে সেখানেও পেশার সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করেই যুক্তি তর্ক হবে এটাইতো কাম্য হওয়ার কথা । বাঘ আর সিংহের ভাগাভাগির লড়াইয়েও শেষ পর্যন্ত কম্প্রোমাইজ হয় । এক পর্যায়ে উভয় উভয়কে মেনে নেয় । ক্যাডার নন-ক্যাডার দ্বন্দের অবসানও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে হতে পারতো, কাদা ছোড়াছুড়ি করে নয় । কিন্ত দুঃখ জনক ভাবে সত্য যে, আমরা নিজেরা নিজেদেরকে সর্বোচ্চ শিক্ষিত, বিজ্ঞ, মেধাবী দাবি করে সম পেশার অন্যদেরকে হেয় করছি অনেকটা নির্বোধের মতই ।
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ সেবাই প্রদান করছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । এখানে রয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী । দেশের অধিকাংশ বড় বড় কর্মকর্তাগণ বেশিরভাগই এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাগ্রহনকারী । বিশেষকরে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা সেবার সিংহভাগই পূরন করে বেসরকারি শিক্ষা খাত । দেশের পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়গুলোতেও উল্লেখযোগ্য হারে মেধার স্বাক্ষর রাখছে এসব নন-গভর্নমেন্ট এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা ।আমাদের দেশে সবচাইতে সনামধন্য এবং শিক্ষা ও ফলাফলের দিক থেকে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষ এখনও নটরডেম কলেজ, ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ, হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ সহ সারা দেশের এরকম আরও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই বুঝে ।এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি হওয়ায় এখানে কোন ক্যাডার শিক্ষক নেই ।মজার বিষয় হলো এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়েই অনেকে ক্যাডার হচ্ছেন ।

উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উর্তীর্ন হয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল এমনকি ওয়াল্ড র‌্যাঙ্কিং তালিকার শীর্ষের দিকে থাকা ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ইত্যাদি ইউনিভারসিটিতে যারা চান্স পাচ্ছে তাদের সংখ্যা জেনে নিলে বুঝা যাবে এক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষার অবদান মোটেই অবজ্ঞা বা অবহেলা করার মত নয় । প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাশ করে বের হচ্ছে । মেধার দিক থেকে এরা প্রায় সম পর্যায়ের ।এসব হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতি বছর বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহনও করছে ।আমাদের দেশে সরকারি চাকুরির বাজার সীমিত হওয়ায় বিসিএস পরীক্ষায় চুড়ান্তভাবে উর্তীর্ন অল্প সংখ্যক মানুষের চাকুরি হচ্ছে ।অন্যদিকে প্রশ্ন সংক্রান্ত কেলেংকারীর কথা আলোচনায় নাইবা আনলাম কিন্ত কোটা প্রথার ফলে অনেকের যোগ্যতা থাকা সত্বেও ডিসকোয়ালিফাই হয়ে যাচ্ছে একথাতো অস্বীকার করার মত নয়।

যারা প্রায় সম যোগ্যতার হয়েও বিসিএস কোয়ালিফাই করতে পারেননি তাদের অধিকাংশই চলে যায় বেসরকারি শিক্ষা পেশায়, কেউ যায় ব্যাংকিং বা বীমা পেশায়, কেউ সাংবাদিতা পেশায়, কেউ আইন পেশায়, কেউ যায় দেশী বিদেশী কোম্পানীতে, কেউ যায় এনজিও সহ অন্যান্য পেশায় । এসব যায়গায় থাকা অবস্থায় অনেকে ক্যাডার বা নন ক্যাডার জবের জন্য চেষ্টা করে সফলও হয় । কেউ নানা কারনে সংশ্লিষ্ট পেশায়ই থেকে যায় বা কোথাও যাওয়ার চেষ্টাও করেনা । বিগত ৩৫তম বিসিএস এ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উর্তীর্ন হয়েছিল ৫ হাজার ৫১৭ জন । তন্মধ্যে ২ হাজার ১৫৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি ।প্রায় একই যোগ্যতা সম্পন্ন অবশিষ্টদেরকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন ক্যাডার পোস্টে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল । যতদূর জানি তাঁদের মধ্য থেকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ।তাহলে প্রায় একই যোগ্যতা থাকার পরও শুধু ক্যাডার পদ পাননি বলে তিঁনি কি ক্যাডারদের কাছে নিগৃহীত হবেন ?

আমাদের দেশে এমন প্রতিষ্ঠানও আছে যে প্রতিষ্ঠানের এখনও এমপিও হয়নি কিন্ত সে প্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষকও আছে যাঁর একাডেমিক রেজাল্ট, শিক্ষকতার দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, বিনয়, সততা, নিষ্ঠা, পেশার প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি কোন কোন ক্যাডার শিক্ষককেও হার মানাবে । আবার আমাদের দেশে সদ্য বিসিএস কোয়ালিফাই করা আমাদের ছাত্র সমতুল্য এমন মেধাবী শিক্ষকও আছেন যাঁরা শিক্ষকতায় পঁচিশ বছর অতিবাহিত করা আমাদের মত শিক্ষককেও পড়াতে পারবেন ।

পরিশেষে একজন সম্মানিত ক্যাডার শিক্ষকের একটি কর্মের কথা বলেই শেষ করতে চাই ।লেখার শুরুতে দেয়া স্ক্রীনশটটি একজন সম্মানিত ক্যাডার শিক্ষকের ফেসবুক আইডি (তাঁর সম্মান রক্ষার্থে প্রোফাইল ফটো ও নামটি মুছে দিয়ে স্ক্রীনশটটি ব্যবহার করা হলো) । বর্তমানে ক্যাডার নন-ক্যাডার বিতর্কে জড়িয়ে পড়া সম্প্রতি জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকগণকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পোস্টটি দিয়ে মূলত তিঁনি সমগ্র বেসরকারি শিক্ষকগণকেই তিরস্কার করেছেন । তাঁর পোস্টটি দেখেই বুঝা যাচ্ছে তিঁনি শিক্ষক হয়ে জাতিকে কী শিক্ষা দিচ্ছেন ।

প্রতিযোগিতা থাকবে, হার জিত থাকবে, তাই বলে যারা হারবে তাদের অপমান করতে হবে ? দু’টি শক্তিশালী দলের মধ্যে যখন ক্রিকেট খেলা হয়, তাদের এক দল যদি এক রানে জয়লাভ করে তাহলে কি পরাজিত দলকে বলা হবে তারা অযোগ্য ? বিসিএস ক্যাডারের চিন্তা আর রাজনৈতিক ক্যাডারের চিন্তা কি একই রকম হওয়া উচিত ?

একজন ক্যাডার শিক্ষকের নিকট থেকে বেসরকারি শিক্ষকদেরকে তিরস্কারের এমন ভাষা কাম্য নয়। তাই আসুন  ভদ্র ও মার্জিত  ভাষায় এর প্রতিবাদ করি, নিন্দা  জানাই । ক্যাডার-নন ক্যাডার, সরকারি- বেসরকারি, দল-মত  নির্বিশেষে  সকল  স্তরের  শিক্ষক উৎকৃষ্ট ভাষায় এ ধরনের গর্হিত কাজের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করি । শিক্ষকতার মত মহান পেশাকে সকল নিকৃষ্টতার উর্ধ্বে রাখি ।

== এ এস এম কামাল উদ্দিন, বেসরকারি কলেজ শিক্ষক ।

Monday, November 27, 2017

শিক্ষা জাতীয়করণ: ২০১৮ সাল দাবি আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়

শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গ।।

জাতীয়করণের আন্দোলন শুধু ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকলে জাতীয়করণ শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে । ফেসবুকের সঙ্গে বাস্তব ও দৃশ্যমান কর্মসূচী থাকতে হবে । পেশাজীবি সংগঠনগুলোর মধ্যে সকল সময়ই সরকার সমর্থিত এক বা একাধিক সংগঠন গড়ে ওঠে । এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মুখে দাবী আদায়ের স্লোগান থাকলেও মূল উদ্দেশ্য থাকে নেতা হওয়া এবং সরকার থেকে নানা ধরনের সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে দাবী আদায়ের আসল আন্দোলনকে বিনষ্ট করা । তাই আসল নকল চিনে পথ চলতে হবে ।এবার নকলদের পাতানো ফাঁদে পাঁ দিলে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের সারাজীবন হায় হায় করতে হবে ।
বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করনের দাবী আদায়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষকদের জীবনে ২০১৮ সালই সর্বদিক থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত ও একমাত্র সেরা সময় । সময়ের ফোঁড় সময়ে না দিলে জাতীয়করণ হবে সোনার হরিণ । যদিও কিছু কিছু কর্মসূচীর কথা অনলাইন পত্রিকা দৈনিক শিক্ষা এবং কিছু ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে জানা যাচ্ছে । কিন্ত এসব কর্মসূচী সম্পর্কে সাধারন শিক্ষকদের মনে নানা রকমের সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে । বিগত ২/১ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে কিছু শিক্ষক সংগঠন জানুয়ারীতে পালন হবে এমন কিছু কঠিন কর্মসূচী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ঘোষনা করে থাকে । কিন্ত জানুয়ারী মাস যতই ঘনিয়ে আসে কর্মসূচী দাতাদের কঠিন কর্মসূচী ততই কোমল হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে অজ্ঞাত কারনে এসব কর্মসূচী হিমাগারে চলে যায় ।
২০১৮ এর শেষে অথবা ২০১৯ এর প্রথমে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ।নানাদিক থেকে এ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য সকল নির্বাচনের চেয়ে যে তাৎপর্যপূর্ন সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।এ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার পূনরায় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হওয়া যেমন কঠিন হবে, তেমনি প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোর জন্য ক্ষমতা ফিরে পাওয়া আরও কঠিন হবে ।আগামী নির্বাচনের উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী বাংলাদেশের কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত ভবিষ্যত । আমার বিশ্বাস ষোল কোটি মানুষের এ দেশে দেশপ্রেমবোধ সম্পন্ন ক্ষমতাধর মানুষের অভাব নেই ।তাই আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি, সামনের নির্বাচনে বাঁকা পথে কোন দলই বৈতরনী পার হয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারবেনা । আর দেশপ্রেমবোধ সম্পন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থেই এটি হতে দেবেন বলে মনে হয়না । তাই সাময়িক একটি অনাকাংখিত কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অবশেষে সকল দলই একটি যৌক্তিক সমাধানে আসতে বাধ্য হবে এবং সকল দলের অংশগ্রহনে একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক নতুন ইতিহাস রচনা হতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস ।
সুতরাং এমন একটি পরিস্থিতিই হতে পারে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের একমাত্র ফলপ্রসূ উপায়।এ সময়ই হতে পারে আন্দোলন সংগ্রাম আর দরকষাকষির মাধ্যমে দাবি আদায়ের একমাত্র উপযুক্ত সময়।একদিকে, এ সময়ে বিরোধী দলগুলোর নিকট থেকে ক্ষমতায় আসার পরপরই বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করনের একটা চুড়ান্ত প্রতিশ্রুতি আদায় করা হবে অত্যন্ত সহজ একটি কাজ । অন্যদিকে বর্তমানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের নিকট থেকে সহজেই জাতীয়করনের ঘোষনা আদায় করা যাবে যদি আন্দোলন সঠিক পথে চলে ।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতিকে নিরুপায় হয়ে মেনে নিলেও ক্ষমতাসীনদের নিকট থেকে আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে ‘শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন করা হবে’ এমন মুলা ঝুলানো প্রস্তাবকে শিক্ষক সমাজ মেনে নেবে বলে মনে হয়না । তাই নানা দিক থেকে দাবি আদায়ের এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সময় ।
তবে যত সহজে দাবি আদায়ের বিষয়টি লেখা হলো তত সহজে দাবি আদায় হবে এমনটা চিন্তা করা বাতুলতা মাত্র ।এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হতে পারে বেসরকারি শিক্ষক সংগঠনের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ।
প্রথমত, নেতৃত্বের অগ্রভাগে যাঁরা থাকেন তাঁরা সাধারনত রুই কাতল শ্রেণির ।তাঁরা যেসব পদে বা প্রতিষ্ঠানে থাকেন সেখান থেকে বৈধভাবেও যা আয় করতে পারেন তা জাতীয়করণের প্রাপ্তির চেয়েও কয়েকগুন বেশি । সুতরাং তাঁদের মাধ্যমে জাতীয়করণের দাবি আদায় হবে এটা যাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁরা মূলতঃ বোকার স্বর্গেই বসবাস করেন ।
দ্বিতীয়ত, যাঁরা মূলতঃ সরকারের সঙ্গে লিঁয়াজো করে চলার এবং বিভিন্ন সুবিধা গ্রহনের জন্য নেতৃত্বে থাকেন তাঁদের নগদ প্রাপ্ত সুবিধা যদি জাতীয়করণের সুবিধার চেয়ে বেশি হয় তাহলে তাঁরা জাতীয়করণের আন্দোলন সফল করে কেন বোকামী করবেন ?
তৃতীয়ত, অবসরে চলে যাওয়ার পর জাতীয়করণ হলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির কী লাভ? যাঁরা অবসরে যাওয়ার পরও নেতৃত্ব আঁকড়ে ধরে আছেন তাঁরা অন্যের চাকুরি জাতীয়করণের জন্য মনেপ্রাণে কাজ করবেন এ আশা করাটা কী বাতুলতা মাত্র নয় ?
তাই দূর্নীতিবাজ, সুবিধাবাদী লিঁয়াজোবাজ, অকারনে সরকার বিরোধী ধান্ধাবাজ, লোভী, অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠান থেকে বড় ধরনের সুবিধাভোগী এমন ধরনের নেতৃত্বকে বাদ দিতে হবে । সাধারন মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পারফরম্যান্স দেখে ত্যাগী ও যোগ্যদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে । বায়ুবীয় কর্মসূচী বাদ দিয়ে গঠনমূলক ও দৃশ্যমান কর্মসূচী নিয়ে আন্দোলন করতে পারলে ২০১৮ সালেই জাতীয়করণের দাবি আদায় অবশ্যই সাফল্যের মুখ দেখবে ।
সর্বশেষ সমস্যাটার কথাতো বলা হলোনা ।বাজেট নেই, টাকা নেই এ অযুহাতে শেষমেষ জাতীয়করণের আন্দোলন হিম শীতল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । তাহলে সমাধান কী ? জাতীয়করণ করতে যে পরিমান অর্থ খরচ হবে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি অর্থ নাকি শিক্ষা খাতে দূর্নীতি হয় ।
উত্তর একটাই, একেবারেই সরল অংক-দূর্নীতি কমলেই জাতীয়করণ সম্ভব । তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়তো সরকারি কোষাগারে যাবেই ।তাই এখন শুধু প্রয়োজন মেরুদন্ড সোজা রেখে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী প্রদান করা এবং কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সহযোগী ভূমিকা পালন করবেন মর্মে দৃঢ় অঙ্গীকার আদায় করা ।

=== লেখকঃ এ এস এম কামাল উদ্দিন, সহকারি অধ্যাপক === 

Featured post

অধ্যক্ষ জনাব এম এ বারী স্মরণে।

অধ্যক্ষ এম এ বারী ছবিটি স্যারের জৈষ্ঠ পুত্র জনাব সাজ্জাদুল বারী ’র নিকট থেকে সংগৃহীত।  আমার প্রথম বস অধ্যক্ষ জনাব এম এ বারী। আজ থেকে ঊনত্রিশ...